মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ফসলের উন্নত জাত

পুষ্টি চাহিদা পুরনে ফল-মূল শাক-সবজির ভূমিকা অপরিসীম। আম, লিচু, পেয়ারা, নারিকেল, কুল ইত্যাদি ফলে ভরা এই উপজেলা। শস্য বহুমুখী করন পদ্ধতি খুবই গুরুত্ব পাচ্ছে। লবনাক্ততা সহনশীল জাত উদ্ভাবিত হওয়ার ফলে লবনাক্ত ঘের এলাকায় ধান আবাদের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সমতা রেখে  খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ উপজেলায় বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও বাসত্মবায়নের মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন আশা করা যাচ্ছে।

কালিগঞ্জ উপজেলা খাদ্যে উদ্বৃত্ত একটি উপজেলা। শুধু খাদ্যে নয়, শাক-সবজি উৎপাদনে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই উপজেলা হতে সারা বছরই বেগুন, পটল, ডাটা, ও অন্যান্য সবজি  ঢাকায় যাচ্ছে। শুধু খাদ্য শাক-সবজি আর ফল-মুলেই সমৃদ্ধ নয়, সাদা সোনা নামে খ্যাত বাগদা ও গলদা চিংড়ী উৎপাদনে ও রপ্তানিতে  যথেষ্ট অবদান আছে। এই উপজেলায় সেটের বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বাগদা ও গলদা চিংড়ী  ছাড়াও সাদা মাছ বিক্রি হচ্ছে। ইহা এলাকার তথা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে যথেষ্ট অবদান রাখছে। অত্র উপজেলায় একফসলী, দুইফসলী, তিনফসলী  জমি ব্যবহারের পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে,সাথে সাথে মিশ্র ফসলী  জমির পরিমান ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তুলনামুলক ভাবে বেশি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানেও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা সম্ভব হচ্ছে।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধিনে বাস্তবায়িত বিশেষ কর্মসূচী

১। পানিফল- যে স্থানে বর্ষা মৌসুমে পানির পরিমান বেশী থাকে এবং আমন ধান হওয়া সম্ভব নয়, সে স্থানে কৃষি সম্প্রসারণের অধিদপ্তরের সহায়তায় পানি ফল চাষ করে চাষীরা উপকৃত হচ্ছে।স্থানীয় ভাবে  পানি ফল - পানি সিংগাড়া নামে পরিচিত। পানিফল  উৎপাদনের খরচ নাই বললেই চলে। হেক্টর প্রতি পানি ফলের ফলন ৩৫-৪০ মেঃটন। পানি ফল কেজি প্রতি ১৫-২০টাকা বিক্রয় হয়।

২। কুলবাডিং-উপসহকারী কৃষি অফিসারের প্রত্যক্ষ সহায়তায় জংলী কুলগাছ বাডিংয়ের মাধ্যমে  উন্নত কুল গাছে রুপান্তরিত করার ক্ষেত্রে কালিগঞ্জ উপজেলার সুনাম আছে। উন্নত কুলগাছের সংখ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।  কুল চাষীরা কুল চাষে লাভবান হচ্ছে।

৩। সজিনার ডালঅত্র উপজেলার সজিনা ডাটা উৎপাদন যথেষ্ঠ বৃদ্ধি পেয়েছে অভ্যন্তরিন  চাহিদা মিটিয়ে কালিগঞ্জ হতে সজিনার ডাটা ঢাকায় বাজারে বাজার জাত করা হয়ে থাকে। এতে চাষিরা ভাল মূল্য পায় ও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

৪। আমগাছব্যবস্থাপনা-  আম গাছ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অত্র উপজেলার উপসহকারী কৃষি অফিসারদের যথেষ্ট আবদান রয়েছে। আম গাছ পরিচর্যা, উপরিসার প্রয়োগ, পানি সেচ ও হপার নিয়ন্ত্রেনে চাষীদের পরামর্শের মাধ্যেমে অধিক উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। অত্র উপজেলার জমিতে আম গাছ আছে। কালিগঞ্জ হতে আম ঢাকা সহ বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। ঢাকার আমের বাজারে কালিগঞ্জ আমের যথেষ্ট সুনাম আছে।

৫। কম্পোষ্ট তৈরী-চালা সহ কম্পোষ্ট সার তৈরীতে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করণ, রাসায়নিক সার ব্যবহার সীমিত রেখে কম্পোষ্ট সার ব্যবহারের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। এর সুফল চাষীরাও বুঝতে পারছে  কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুইক কম্পোষ্ট তৈরীর মাধ্যমে কম্পোষ্ট এর ব্যবহার খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

 সমস্যাসমূহ ১.লবনাক্ততারপ্রভাবঃ-

* রবি মৌসুমে মাটি ও পানির লবনাক্ততার প্রভাবে কালিগঞ্জ উপজেলার কিছু এলাকা আবাদ   সম্ভবপর

  হয় না এবং স্বল্প আবাদকৃত ফসলী জমিতে সেচ সমস্য দেখা যায়।

* চিংড়ী ঘেরের পাশ্ববর্তী এলাকায় স্থা‌য়ী বৃক্ষ সমূহ ক্রমান্বয়ে মারা যা্চ্ছে বা হ্রাস পাচ্ছে।  ইতিমধ্যে বেশ

  কিছু এলাকায় গাছপালা মারা গেছে। মাটির উর্বরতা শক্তি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। ধান সহ শাক-সবজি

  উৎপাদন কমে যাওয়ায় উপকুলীয় অঞ্চলের কৃষি শ্রমিক স্থানান্তরিত হচ্ছে। 

সুপারিশমালা

           * অধিক লবণ সহিষ্ণু ধান সহ বিভিন্ন ফসলের জাত উদ্ভাবন করা

* মজবুত বেড়ী বাধ তৈরী করে বাধের উপর বৃক্ষরোপন সহ সবুজ বেষ্টনী কার্যক্রম গ্রহণ করা। পুকুর, খাল-বিল, নদী-নালা  পরিকল্পিতভাবে খনন/পুনঃখনন করে বর্ষা মৌসুমে মিষ্টি পানি সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা যার মাধ্যমে ফসল আবাদ করা যায়। ব্লক পর্য্যায়েই । ই সি(EC) মিটার সরবরাহ করা আবশ্যক।

* ক) কৃষিতে আরও গতিশীল ও জনগনের দোরগোড়ায় আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারনের স্বার্থে মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি অফিসারগনের জন্য ইউনিয়ন বীজাগার সমূহকে অফিস কক্ষ কার্য বাসভবন হিসাবে ব্যবহারের জন্য নতুন ভাবে তৈরী/সংস্কারের সুপারিশ করা হলো।

* খ) ইউনিয়ন বীজাগার সমূহকে বাংলাদেশ সরকারের অনুকূলে সচিব মণ্ত্রনালয়, কৃষিসম্প্রসারন অধিদপ্তর নামে রেকর্ড ভুক্তির প্রজ্ঞাপন জারির আদেশ প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হলো।

 

কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক ও সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে কৃষি ক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন হয়েছে ও হচ্ছে।